কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে পটুয়াখালী পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

শেয়ার করুনঃ

বাংলাদেশের দুটি প্রধান সমুদ্রসৈকতেরই রয়েছে পর্যটক আকর্ষণ করার সক্ষমতা। কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত হিসেবে পরিচিত। আর কুয়াকাটা থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। ফলে দুই সমুদ্রসৈকতই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান হতে পারত। কিন্তু দর্শকদের মন জয় করার জন্য যে সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ প্রয়োজন, তা উভয় সৈকতে অনুপস্থিত। এসব নিয়ে লেখালেখি হলেও কর্তৃপক্ষের ঘুম ভেঙেছে বলে মনে হয় না।

বিশেষ করে নবীন সৈকত কুয়াকাটার সমস্যা প্রকট। সৈকতজুড়ে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে রাখা হলেও সরানোর কেউ নেই। এ নিয়ে পৌরসভা কর্তৃপক্ষের ও সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপাচ্ছে। সৈকতে অনেক সময় খাবারের বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় পটুয়াখালী পুলিশের খেলোয়াড় দলের সদস্যরা সৈকত পরিচ্ছন্ন করার যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন, তাকে আমরা স্বাগত জানাই। পত্রিকার খবর অনুযায়ী, তারা কুয়াকাটায় সৈকতের ৮ কিলোমিটারের প্লাস্টিকের বোতল, বিভিন্ন পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য পরিষ্কার করার পাশাপাশি জেলা পুলিশের উদ্যোগে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক ডাস্টবিন স্থাপন করেছে। শনিবার সকালে কুয়াকাটার পূর্ব দিকে গঙ্গাম‌তী চর এলাকায় পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মইনুল হাসান পিপিএম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উল্লেখ্য, গঙ্গামতী নামের যে স্থানটি থেকে সূর্যোদয় উপভোগ করা যায়, সেখানে পর্যটকদের ভিড় বেশি বলে ময়লা-আবর্জনার পরিমাণও বেশি। এ কারণে পুলিশ সদস্যরা ওই স্থান থেকেই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন। তবে কাজটি এক দিনের নয়। প্রতিদিনই সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে এ রকম ব্যতিক্রমী উদাহরণ তৈরির চেয়েও জরুরি হলো আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা। এমন ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে, যাতে কেউ সৈকতে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পার না পায়। আমাদের আশা থাকবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিবেশদূষণকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।

শুধু কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতেই নয়, কক্সবাজার সৈকতের পরিবেশও সুবিধার নয়। সেখানেও ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার অনেক উদাহরণ আছে। গত ডিসেম্বরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে ‘উই ক্যান প্ল্যাটফর্ম’-এর সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ ফোরামের ৩২ সদস্য নিয়ে এখানে-সেখানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছিল। কিন্তু সমুদ্রসৈকত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব যাঁদের ওপর ন্যস্ত,
তাঁরা কী করছেন?

সূত্র : প্রথম আলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *