হিউম্যান ডগ : মধ্যবিত্ত পুরুষের অন্দরের চিত্র এলো বাহিরে

শেয়ার করুনঃ

হিউম্যান ডগ কনসেপ্ট নিয়ে দেশটায় হঠাৎ করে একটা জ্বর উঠলো। পুলিশ ডেকে নিলো আর্টিস্টদের। ক্ষমা চাইলো। ব্যস-ঘটনা শেষ। কিন্তু আদতে কি ঘটনা শেষ হয়েছে?

বাংলাদেশে স্বস্তা টেকনোলজির আবেগে এত দ্রুত ঘটনা ঘটতে থাকে যতদ্রুত মানুষের মগজও কাজ করে না। সুতরাং এটি আহামরি কিছু নয়-যে হিউম্যান ডগ আর্ট এলো আর চলে গেলো। তা নিয়ে ভাবার অবসর কার আছে?

ফেসবুকের নোটিফিকেশন আর টেলিভিশনের স্ক্রল চলে যাওয়ার পর আমরা যেমন পরবর্তী আকর্ষণের জন্য অপেক্ষা করি তদ্রুপ নতুন বছরে যেন এত চমক না থাকে সেই প্রত্যাশা করেই শুরু করছি।

হিউম্যান ডগ আর্ট কে কবে আবিস্কার বা প্রদর্শন করেছে সেটি মূখ্য ব্যাপার না। ব্যাপার হলো হিউম্যান ডগ কি বার্তা দিলো?

অনেকেই এটিকে বর্বর চেতনা, অমানবিক আর্ট আর ধর্মীয় দৃষ্টিকোনে জাহান্নামি বলতে পিছপা হননি। কিন্তু বাস্তবিক কি হিউম্যান ডগ নেই?

আপনাদের চেতনা আর বাস্তবতা দুইপাশে রেখে আপনি মাঝখানে দাড়ান। সমাজের ভেতরে চোখ বুলান। লাখ লাখ হিউম্যান ডগ চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যা আমরা দেখছি-বুঝতে পারছি; কিন্তু বলতে পারছি না।

হাতিরঝিলে হিউম্যান ডগ আর্ট উপস্থাপনের পর আপনাদের সবার মাঝে প্রতিক্রিয়ার বন্যা বয়ে গেলো। কিন্তু এত নাড়া দিলো কেনো?

নোটিফিকেশনে যা দেখেছি তার নব্বুইভাগ প্রতিবাদ ছিল পুরুষের পোস্টে। আমি মনে করি, হাতিরঝিলের হিউম্যান ডগ আর্ট মধ্যবিত্ত সমাজের পুরুষকে দেখিয়েছে-তাইতো তাদের ইজ্জতে বেঁধেছে। সেকারনেই প্রতিবাদ করেছে। কারন গোমর ফাঁস হয়ে গেলো যে!

ওই আর্ট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে গেলো সমাজে অস্বাভাবিকহারের বেড়েছে আধিপত্যবাদ। মধ্যবিত্ত নির্যাতন। নারী নির্যাতনের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পুরুষ নির্যাতনও।

উচ্চ শিক্ষিত অথচ মধ্যবেতনের চাকুরে, সাংবাদিক বা কবি কি তার ঘরে এই নির্যাতনের শিকার নন? তাকে কি হাতিরঝিলের ওই হিউম্যান ডগ হয়ে ঘুরতে হয় না ঘরে? ভাবুনতো একবার?

তাহলে মিথ্যা হলো কিভাবে?

সমাজ-রাষ্ট্র-ধর্ম যদি মানুষের জীবনের সমস্যা সমাধান করতে না পারে, যদি শুধু আশ্বাস দিয়ে অপরের কাছে কুকুর করে রাখলো-তাহলে সেই রাষ্ট্র বা জীবন ব্যবস্থা কি উপকারে এলো মানুষের জীবনে?

হাতিরঝিলে আমরা আামাদের মধ্যবিত্ত পুরুষদের অন্দরের চিত্র দেখেছি। যারা এর প্রতিবাদ করেছেন তারা হলেন হুজুগে সজাগ। বাস্তবিক ঘুমিয়ে আছেন। সমাজ-রাষ্ট্র-ধর্ম তাদের ধমনীতে লোভের এ্যানেসথেসিয়া পুশ করে বুঝে-না বুঝে চিৎকার শিখিয়েছেন।

যে কারনেই মাফ চাইতে হলো হাতিরঝিলের হিউম্যান ডগ আর্টের শিল্পীদের।এটা অপ্রত্যাশীত।

লেখকঃ সৈয়দ মেহেদী হাসান

সভাপতি, নিউজ এডিটরস কাউন্সিল, বরিশাল।

(উপরোক্ত লেখাটি লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *