ট্রেডিশন অনুযায়ী আমরা যা বলি!

শেয়ার করুনঃ

মন্ত্রী বিবেচনা করা হয় এলাকা দেখে ৷ যা অনেকটা জেলা কোটার মত। ধরে নিন একই জেলায় তিন জন লোক খুবই যোগ্য এবং সমগ্র বাংলাদেশে তারা বিকল্পহীন। তাদের তিনজনকেই মন্ত্রী দেয়া হল দেশের সার্থে । কিন্তু ট্রেডিশন অনুযায়ী আমরা বলব এক জেলায় এত!

ঠিক একইভাবে কিছু এলাকায় তেমন সমৃদ্ধ কোন রাজনৈতিক না থাকায় ঐ এলাকা থেকে জাইঙা না পরা লোক মাঝে মাঝে জেলা কোটায় মন্ত্রী হয়।

এদেশে মন্ত্রী পরিষদে আবার চায়না পন্থী, সোভিয়েত পন্থী, মার্কনী পন্থী লোক থাকে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে বলতে হয় সব পন্থীই আছে মন্ত্রী পরিষদে। কেবল তিনিই শুধু একমাত্র বাংলাদেশ পন্থী।

চায়ের দোকানে বসলে মাঝে মাঝে ঠাকুরমার ঝুলির মত শোনা যায় কে কেন কিভাবে মন্ত্রী হলেন।

অনেক মন্ত্রী সেল্ফি বাজ। কেউ পুরাদস্তুর ব্যবসায়ী।
কেউ টেন্ডারবাজ। কেউ কেউ সৎ কিন্তু অদক্ষ। কেউ অসৎ কিন্তু সাংগঠনিক যোগ্যতা বলে দক্ষ। কেউ কাজে পটু কিন্তু কথায় না। তাই মাঝেমধ্যে অফসাইডের স্বীকার হন। কেউ কেউ টক শো বাজ।

কেউ কেউ মিডিয়ার লোক। তাদের মালিকানায় একাধিক অচল সচল মিডিয়া বাক্স।

কেউ কেউ মোড়কবাজ! ধরেন উন্নয়ন কাজ শেষ না হতেই তিনি তিন চারটি ফলকের মোড়ক উন্মোচন করবেন।

কেউ আবার মারাত্মক হিংসুটে। ৯৮ সালে আমি এক জেলায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে একজন মন্ত্রী তার মন্ত্রনালয়ের অধীনে এক্টি ভবন উদ্বোধন করার জন্য ঐ জেলায় আগমন করবেন।

কিন্তু ঐ জেলায় জন্মগ্রহণকারী আরেকজন মন্ত্রী তার নিজ জেলায় অন্য কোন মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে এসে ফিতা কেটে যাবেন, এটা স্থানীয় মন্ত্রী কিছুতেই মানতে নারাজ।

তাই ফিতা কাটার আগেই শহরর প্রচন্ড মারামারি। আর ফলক উন্মোচন হয়নি। বহিরাগত মন্ত্রী প্রোগ্রাম ক্যান্সেল করেন।

কিছু মন্ত্রী নারী বান্ধব। কেউ কেউ ধর্ম বান্ধব। আর খুব কমই জন বান্ধব।

তবে জন বান্ধব দিয়ে আর এখন মন্ত্রী চলেনা।

মন্ত্রীর কাজ হচ্ছে দেশ বান্ধব হওয়া।

কিন্তু আমরা তো জন বান্ধবই হতে পারছিনা। কেউ কেউ দলবান্ধব হয়ে চেষ্টা করছেন মন্ত্রীত্ব টিকিয়ে রাখতে।

কিছু কিছু মন্ত্রী জ্ঞানগত সীমাবদ্ধতার জন্য সচিবদের উপর মারাত্মক নির্ভরশীল।

অনেক সচিবের রাজনৈতিক যোগ্যতা আবার মন্ত্রীর চেয়ে বেশি। এভাবে কেউ কেউ হয়ে পরেন কেরানি নির্ভর।

আর ইম্পি / ঠিকাদারদের কথা নাই বা বললাম।

লেখক: সৈয়দ আশিক

উপস্থাপক ও নির্মাতা,
প্ল্যানার বাংলাদেশ টেলিভিশন (অনুষ্ঠান) ,নির্দেশক জাতীয় স্কুল বিতর্ক বিটিভি।

লেখাটি ফেসবুক থেকে হুবহু নেওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *