ছিয়াশি বছরেও তারুণ্য ধরে রেখেছে ‘দেশ’

শেয়ার করুনঃ

ছিয়াশি বছর ধরে একটি সাহিত্য পত্রিকা দাপটের সঙ্গে টিকে আছে। ভাবা যায়? ‘দেশ’ পত্রিকা ভাবতে বাধ্য করছে। গত রোববার পত্রিকাটির ৮৬তম জন্মদিন গেছে। এই ছিয়াশি বছরে ‘দেশ’ বাংলা সাহিত্যকে অনেক তাবড় তাবড় সাহিত্যিক উপহার দিয়েছে। শীর্ষেন্দু, সুনীল, সমরেশ, শংকর, সঞ্জীব- এদের জন্মই তো দেশের কোলে! একটি জাতীর মননশীলতা কীভাবে একটু একটু করে তৈরি করতে হয়, তা দেখিয়ে দিয়েছে ‘দেশ’। কীভাবে নতুন প্রতিভাকে খুঁজে বের করতে হয়, লালন করতে হয়, ছায়া দিয়ে বড় করতে হয়–‘দেশ’ এর কাছ থেকে তা শেখা উচিত।

বলছিলাম জাতীর মননশীলতার কথা। একটা জাতী তো এমনি এমনি মননশীল হয়ে ওঠে না। তার পেছনে শিল্প-সাহিত্য সঞ্জীবনী সুধার মতো গোপনে গোপনে কাজ করে যায়। আমি মনে করি, ‘দেশ’ সেই কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছে; এবং আজ অবধি করছে। কলকাতার বাঙালির মননশীলতার ইতিহাস রচতে গেলে পত্রিকাটার ভূমিকার কথা অস্বীকার করার কী উপায় আছে? মনে হয় না। কলকাতার পাঠকরা যে পরিণত, তাদের রুচিবোধ যে উন্নত-তার পেছনে কলকাঠি নাড়ে এই ‘দেশ’ পত্রিকা। স্বীকার করতেই হবে।

বিপরীতে, এই বাংলায় পাঠকরা কেন অন্তসারশূন্য, কেন খালি কলসির মতো ঠন ঠনা ঠন বাজে বেশি, কেন লেখকরা এই ফাঁপা পাঠকদের মনোরঞ্জনের জন্যই কলম ধরে, তা কী বুঝতে পারছেন কেউ? এই বাংলায় ‘দেশ’ এর মতো একটি সাহিত্য পত্রিকা নেই।

কেন নেই? সে এক বিরাট আফসোস!

আফসোসের কথা আপাতত থাক। ‘দেশ’ নিয়েই বলি। ‘দেশ’ আরও অনেক বছর তার দাপট বজায় রাখবে বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে নিজেকে বদলাতে জানে। সময়ের চাহিদা এবং রুচিবোধ সে চট করে ধরে ফেলতে পারে।

এই যেমন ৮৬তম জন্মদিন উপলক্ষে সারাদিন তারা নিজেদের ফেসবুক পাতায় নানাকিছু সরাসরি সম্প্রচার করেছে। শীর্ষেন্দু, সমরেশ, শংকর, সঞ্জীবদের স্মৃতিচারণমূলক ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওর উপস্থাপনাতেও ছিল রুচির ছাপ। ভিডিওগুলো একটি বইয়ের ফ্রেমের ভেতরে চলছিল। কি যে দারুণ একটা ব্যাপার!

এই যে আধুনিকতার সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং নিজস্ব রুচিবোধ সেখানে মিশিয়ে দেওয়া-এইটিই ‘দেশ’ এর সবচেয়ে বড় শক্তি।

লিখেছেন: মারুফ ইসলাম
কলামিস্ট, সাহিত্যিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *